করোনা আবহে সবজি চাষ করে কর্মহীনদের পাশে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ করোনা আবহে সবজি চাষ করে কর্মহীনদের পাশে দাঁড়ালেন এক সরকারি কর্মী।নিজের খামারবাড়িতে সবজি চাষ করে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু হয়।আবার ডিম উৎপাদনের জন্য হাঁস এবং মুরগি পালনও রয়েছে।এই প্রচেষ্টায় খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষ।স্থানীয় সূত্রের খবর, লকডাউন পর্বে ঘরে বসে বসে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাজদিয়ার এই বাসিন্দা। ওই ব্যক্তি কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। মাজদিয়ার ধরমপুরে তাঁর একটি ফার্ম বাড়ি রয়েছে।
করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজে কিছু করার তাগিদে তাঁর এই প্রয়াস।সূত্রের আরও খবর, লকডাউন ও করোনা সংক্রমণের জেরে কর্মহীন গ্রামের বহু মানুষ। ওইসব অসহায় মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে এলেন তিনি। এরপর পৈত্রিক সম্পত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন কর্মহীন মানুষদের নিয়ে শুরু করলেন বিশেষ উদ্যোগ।কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ শুরু হল।
আবার ৫ বিঘার মতো জমিতে মাছ চাষ শুরু হয়। পাশাপাশি ডিম উৎপাদনের জন্য হাঁস ও মুরগি পালনও শুরু হয়েছে। তাঁর এই প্রয়াসে খুশি গ্রামবাসী। ওই খামারবাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল ও নানা সবজি চাষ হয়েছে নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে। এরপর তিনি ঠিক করলেন, যাঁরা কাজ হারিয়েছেন তাঁদেরকে নিয়ে চাষবাস ও হাঁস- মুরগি পালন করতে।শুরু হয় মাছও চাষ।সবার উদ্যোগে ওই ফার্ম বিভিন্ন রকমের শাক,সবজি, ফল এবং পুকুরে মাছ ও হাঁস-মুরগির ডিম উৎপাদন করছে।
এক্ষেত্রে পরিবারের খাদ্য সমস্যা মিটছে আবার তাঁর কাছে কর্মরত শ্রমিক এবং এলাকার দুঃস্থ মানুষরা আর্থিকভাবে উপকৃতও হচ্ছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য,লকডাউনে বহু মানুষই অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন। বাজারে সবজি, ফল, মাছ ও ডিমের দাম আকাশছোঁয়া।ফার্মের উৎপাদিত নানা ফসল, মাছ ও ডিম এলাকার মানুষের খাদ্যের ঘাটতি কিছুটা হলেও মেটানো গিয়েছে।
তাঁর আরও বক্তব্য, ফার্মের উৎপাদিত প্রোটিনযুক্ত ফসল, পুকুরের মাছ ও হাঁস মুরগির ডিম অনেক মানুষের প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি কিছুটা হলেও কমানো গিয়েছে।উদ্যোগী ও স-হৃদয় নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাজদিয়ার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় সরকারের ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীটির নাম হল বিধান রায়।

